মোঃ কবিরুল ইসলাম কবির
প্রকাশ : Jan 29, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

রাণীশংকৈলে রেকর্ড পরিমাণ সরিষা চাষ------ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌয়ালিরা

মোঃ মোবারক আলী, স্টাফ রিপোর্টার |
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ সরিষা আবাদ হওয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষিরা। উপজেলার বিভিন্ন সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌমাছির বাক্স স্থাপন করে মধু সংগ্রহ করছেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মৌয়ালরা। এতে একদিকে যেমন মধু উৎপাদন বাড়ছে, অন্যদিকে সরিষার ফলনও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।


দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মৌচাষি অনিক ইসলাম জানান, সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। পাশাপাশি মৌচাষের মাধ্যমে অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। সংগৃহীত মধু স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি বোতলজাত করে দেশের বিভিন্ন জেলায়, বিশেষ করে সিরাজগঞ্জে পাঠানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাণীশংকৈল উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, সরিষা ক্ষেতের পাশের খোলা জায়গায় সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে মৌমাছির বাক্স। প্রতিটি বাক্সে মোম দিয়ে তৈরি ছয় থেকে সাতটি মৌচাকের ফ্রেম থাকে এবং ভেতরে রাখা হয় একটি রানি মৌমাছি। রানি মৌমাছির উপস্থিতিতে হাজারো শ্রমিক মৌমাছি ওই বাক্সে এসে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মৌচাষিরা এসব চাক থেকে মধু সংগ্রহ করেন।
মধু সংগ্রহে আসা মৌচাষি আব্দুস সাত্তার জানান, বিশেষভাবে তৈরি স্টিল ও কাঠের বাক্সের ভেতরে সাতটি কাঠের ফ্রেমে মোমের সিট বসানো হয়। বাক্সের ওপরের অংশ কালো পলিথিন ও চট দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। একটি রানি মৌমাছির বিপরীতে প্রায় এক থেকে দেড় হাজার শ্রমিক মৌমাছি থাকে। কয়েকদিন পর চাকগুলো খুলে মেশিনের মাধ্যমে মধু বের করে বোতলজাত করা হয়। প্রায় ১২০টি বাক্স থেকে প্রতি সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ মন মধু সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা সজল বলেন, “প্রতিবছর সরিষার মৌসুম এলেই মৌচাষিরা এখানে আসে। মৌসুম শুরু হলে আমরা আগেই তাদের বিষয়টি জানিয়ে দিই।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সহিদুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে রাণীশংকৈলে সরিষার আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ১টি পৌরসভাসহ ৮টি ইউনিয়নে মোট ৭ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। গত বছর এ উপজেলায় সরিষার আবাদ ছিল ৬ হাজার ৪২৬ হেক্টর। কৃষকরা উচ্চ ফলনশীল (উফশী) বারি-১৪, ১৭ ও ২০ এবং বিনা-১১সহ বিভিন্ন জাতের সরিষা চাষ করছেন।
তিনি আরও বলেন, “সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌচাষ হলে পরাগায়নের কারণে ফলন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে। এতে কৃষক যেমন লাভবান হন, তেমনি বিনা খরচে মধু সংগ্রহের সুযোগ পান মৌচাষিরা। বারি-১৪ জাতের সরিষা ৭৫ থেকে ৮০ দিনের মধ্যেই ঘরে তোলা যায় এবং প্রতি ৩৩ শতাংশ জমিতে প্রায় ৮ মন ফলন পাওয়া সম্ভব। সরিষা কাটার পর একই জমিতে বোরো ধান আবাদ করা যায়, ফলে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়।”
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় এবার সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। এর ফলে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মৌচাষের বিস্তার ঘটায় স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বৃহত্তর খুলনার প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি ব্রজলাল কল

1

হরিপুরে খাবার খেয়ে একই পরিবারের ১১ জন অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্ত

2

গাংনীর সীমান্তে বিএসএফের হস্তান্তরে ৬০ বাংলাদেশি ফেরত

3

নির্বাচন বানচালে ভেতর-বাহিরে শক্তি সক্রিয় হতে পারে: প্রধান উ

4

রান নেই–উইকেট নেই, তবু ম্যাচসেরা

5

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রবাসী সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা

6

খায়রুল কবির খোকন বললেন, ‘তারেক রহমানই সরকার পতন আন্দোলনের মা

7

একাত্তরের চেতনা ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে: ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জ

8

যাত্রীসেবায় “স্পেশাল গেটলক বাস সার্ভিস” চালুর ঘোষণা — সুলতা

9

করোনাকালে বাড়লেও ক্রমেই কমছে স্টার্টআপে বিনিয়োগ, নীতি সহজ কর

10

বরিশালে এক নবজাতককে ৩ দিন ধরে পাওয়া যাচ্ছে না, মায়ের বিরুদ্ধ

11

স্বাধীনতাবিরোধীরা দাঁড়িপাল্লা নিয়ে ভোট চাইছে, সজাগ থাকতে হবে

12

পাঁচবিবি আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সভা ও প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত

13

গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে হ্যাঁ-তে ভোট দেওয়ার আহ্বান — উ

14

এটা স্কুল নয়, শাস্তিও নয়—বললেন ভারতের প্রধান নির্বাচক

15

হরিপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুজা চৌধুরী আর নেই

16

শখ থেকে সফলতা: রাণীশংকৈলের মোশাররফ এখন বাণিজ্যিক পাখি খামারি

17

৪৩তম বিসিএসের ২২৭ জনের প্রজ্ঞাপন হয়নি এখনো, রোববারের মধ্যে প

18

ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন এক কথায় অবাস্তব এবং অসম্ভব: সারজিস আ

19

সরকারের পাওনা ১২৬ কোটি টাকা, ফাঁকি দিতে অভাবনীয় জালিয়াতি ওসম

20